ইসবগুলের ভুষির ৮টি স্বাস্থ্য উপকারিতা ও কিছু সাবধানতা

Plantago ovata
ইসবগুলের ভুষির ৮টি স্বাস্থ্য উপকারিতা ও কিছু সাবধানতা

বাংলাদেশ, ভারত সহ অনেক দেশেই ইসবগুল বেশ পরিচিত। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। ইসুবগুলের ভুষি মানব দেহের জন্য অনেক উপকারি। এটি আভ্যন্তরীণ পাচন তন্ত্রের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারের জন্য বেশ উপকারী। তবে এই সাদা ভুষিটির উপকারিতা শুধুমাত্র হজমতন্ত্রের মাঝেই সীমিত নয়। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। যেমনঃ

কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়েঃ ইসবগুলে থাকে কিছু অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় খাদ্যআঁশের সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ভালো ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে। এটি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বর্জ্য বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ বা কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।

ডায়রিয়া প্রতিকারেঃ ইসবগুল যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সক্ষম একই সাথে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতেও সক্ষম । ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ৩ চামচ টাটকা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে। দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণেঃ অ্যাসিডিটির সমস্যা এখন প্রায় সারবজনিন। ইসবগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে যা অ্যাসিডিটি বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে। মোট কথা সঠিক হজমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে ইসবগুল।

ওজন নিয়ন্ত্রণেঃ ইসবগুল খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায়। হজম প্রক্রিয়াকে কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে। কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুল ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

হজমক্রিয়ায় সাহায্য করেঃ এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরে খাবারের চলাচলে এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে।তাই হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খাওয়া যেতে পারে।

হৃদস্বাস্থ্যের সুরক্ষাইঃ ইসবগুলে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে। এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য ইসবগুল খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জেলির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গ্লুকোজের ভাঙ্গন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। খাবার পর নিয়মিত ভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুল মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে। তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

পাইলস থেকে বাঁচাতেঃ প্রাকৃতিক ভাবে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুল যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উপকারি। এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অন্ত্রের পানিকে শোষণ করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে। এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।

সাবধানতাঃ ইসবগুলের তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে-

যদি অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলেও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কখনো কখনো এটি পাকস্থলীতে টান সৃষ্টি করতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে ইসবগুল খাওয়া বন্ধ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যাদের এপেন্ডিসাইটিস ও স্টোমাক ব্লকেজের মত স্বাস্থ্য সমস্যা আছে তাহলে ইসবগুল খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ইসবগুল অনেকক্ষণ আগে ভিজিয়ে না রেখে সাথে সাথে ভিজিয়ে পান করুন। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো ইসবগুল যথেষ্ট পরিমাণ পানিতে ঢেলে যত দ্রুত সম্ভব পান করে নিন। এর সুফল পেতে এর সঙ্গে প্রচুর পানি পান করতে হবে।

(Visited 143 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar