গরমকালে শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে যে খাবারগুলি

গরমকালে শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে যে খাবারগুলি
গরমকালে শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে যে খাবারগুলি

গরম আর ঘাম হবে না তাতো হতে পারে না। গরমের সময় ঘাম তো হবেই হবে। আর বিরক্তিকর হবে সেই ঘামের গন্ধ। নানান ব্র্যান্ডের পারফিউম কিনতে গিয়ে পকেট হয়ে যাবে খালি কিন্তু জানেন কি কিছু খাবার আছে সেগুলো যদি এই গরমে বেশি মাত্রায় খাওয়া হয়, তাহলে পারফিউম ব্যবহার করেও গায়ের দুর্গন্ধকে কমানো যাবে না। গবেষণা অনুসারে খাবারগুলির মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশ করে আর দুর্গন্ধ বাড়ায়, যা পারফিউমের সুগন্ধ চাপা দিতে পরে না। ফলে বন্ধু থেকে সহকর্মী সবার কাছে মজার পাত্র হতে হয়। লোকসমাজে সম্মানহানীর ঘটনাও বেড়ে যায়। তাই বন্ধুরা বাসে-ট্রামে বা অফিসে গায়ের দুর্গন্ধের কারণে যদি লজ্জায় পরতে না চান, তাহলে দেখে নিন কোন খাবারগুলি বেশি মাত্রায় খেলে শরীর হতে দুর্গন্ধ ছড়াবেঃ-

বেশি মাত্রায় কফি পানঃ বেশি মাত্রায় কফি পান করলে শরীরে ক্যাফিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এমনটা হলে মস্তিষ্কের বিশেষ একটি অংশ এত মাত্রায় অ্যাকটিভ হয়ে যায় যে সোয়েট গ্ল্যান্ড থেকে বেশি মাত্রায় ঘামের উৎপাদন হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলেই ঘামের দুর্গন্ধ অতি মাত্রাই বেড়ে যায়। তাই দিনে ভুলেও ১-২ কাপের বেশি কফি খাবেন না।

অ্যাসপেরাগাস বা শতমূলীঃ এই শাকটি খেলে শুধু শরীর থেকে নয়, প্রস্রাব থেকেও মারাত্মক গন্ধ বের হয়। আসলে এতে উপস্থিত মার্কেপটন নামে একটি গ্যাস এই কাজটি করে থাকে।

বিটঃ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে বিটে উপস্থিত মেথিল নামক একটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করে “ট্রিমেথিলেমাইন” নামক এক ধরনের কেমিক্যালের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যা ঘামের মাধ্যমে বের হতে শুরু করলে শরীর থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ বেরতে থাকে। তাই গরমে বেশি মাত্রায় বিটের তরকারি না খাওয়ায় ভাল।

রেড মিটঃ সুস্বাদু মাংসের তরকারি খেতে তো ভাল লাগেই। কিন্তু তার পরে সেই মাংস শরীরে ঢুকে কত কিছু যে করে সে বিষয়ে জানা আসে কি? গবেষণায় দেখা গেছে রেড মিট খাওয়ার পর তার বেশিরভাগ অংশই একেবারে হজম হতে পারে না। ফলে যে অংশটা হজম না হয়ে পরে থাকে, সেটি ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। আর এমনটা যখন হতে থাকে তখন শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলি আরও সচল হয়ে যায় আর তখন শরীরের দুর্গন্ধ আরও আমারত্মক আকার নেয়।

চুইং গামঃ ঘাবড়ে গেলেন নাকি! বেশি মাত্রায় চুইং গাম খেলে শরীর থেকে বিশ্রী র্গন্ধ বেরতে শুরু করে। যেহেতু চুইং গাম খাওয়ার সময় প্রচুর মাত্রায় বাতাস শরীরে প্রবেশ করে, আর তা পাকস্থলিতে জমতে থাকে। কিছু সময় পর ওই গ্যাস, নানাবিধ অ্যালিডের সঙ্গে মিশে যখন শরীর থেকে বেরিয়ে আসে, তখন তার গন্ধ কতটা যে খারাপ হতে পারে, তা নিশ্চয় আপনারা ধারনা করতে পারছেন।

অ্যালকোহলঃ কয়েক টুকরো বরফের সঙ্গে ঠান্ডা অ্যালকোহল যখন আমাদের গলা দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখনই তা অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে ত্বকের ছিদ্রগুলি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে আরও সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই আপনি যদি ঘামের গন্ধের কারণে লজ্জায় ভোগেন তাহলে এই ধরনের পানীয়ের থেকে ১০০ হাত দুরত্ব বজায় রাখুন।

মাছঃ শরীর সুস্থ রাখতে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কোনও বিকল্প নেয় বললেই চলে। আর মাছে এটি থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে । আর তাই সুস্থ জীবন পেতে মাছ খাওয়াটা জরুরি। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। মাছে কোলিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা গায়ের গন্ধকে বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই মাছ খাওয়ার পর তা ভাল করে হজম করতে পারেন না। ফলে কোলিন নামক উপাদানটি এতটাই সক্রিয় হয়ে যায় যে ঘামের সঙ্গে ট্রিমেথিলেমিন নামে একটি উপাদান বেরতে শুরু করে, যা গন্ধের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ কিছু সবজিঃ আপনার গায়ে কি খুব দুর্গন্ধ? তাহলে বাঁধাকোপি, ব্রকলি, কর্নফ্লাওয়ার খাওয়া একেবারেই চলবে না। কারন পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই সবজিগুলি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে দারুন উপকারে লাগে ঠিকই, কিন্তু এতে উপস্থিত সালফার গায়ে মারাত্মক গন্ধ সৃষ্টি করে। তাই তো যাদের গায়ে খুব দুর্গন্ধ হয়, তাদের এই সবজিগুলি খেতে মানা করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

বেশি মাত্রায় ঝাল মশলা দেওয়া খাবার খাবেন না। মুখরোচক খাবার আদা, রসুন, পেঁয়াজ ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যাটা হল এমন ধরনের খাবারে উপস্থিত এই সব মশলাগুলিতে প্রচুর মাত্রায় সালফার থাকে। আর একথা অনেকেই জানে শরীরে বদ গন্ধ সৃষ্টিতে সালফারের কোনও বিকল্প হয় না। তাই গরমকালে একটু কম মশলা দেওয়া খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

(Visited 75 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar