সাধারণ লবণের কয়েকটি ব্যতিক্রমী ব্যবহার

লবণের ব্যতিক্রমী ব্যবহার

রান্নার অন্যতম উপকরণ লবণ। এটি ছাড়া রান্না কল্পনাই করা যায় না। কিন্ত অনেকেই হয়ত জানেন না রান্নায় স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও লবণের রয়েছে বেশ কয়েতটি ব্যতিক্রমী ব্যবহার। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সাধারণ লবণের ব্যবহার করবেন অসাধারণ কাজে –

১। ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতেঃ
– ফ্রিজ অনেক দুর্গন্ধ হয়ে গিয়েছে? খুব সহজেই দূর করে দিতে পারবেন লবণ কুসুম গরম পানি দিয়ে ফ্রিজ ধুয়ে। এতে ফ্রিজের দুর্গন্ধ অনেকাংশেই দূর হয়ে যাবে এবং ফ্রিজে একধরণের তরতাজা ভাব চলে আসবে, খাবারেও গন্ধ হবে না।

২। এনামেলের পাত্র থেকে খাবারের দাগ তুলতেঃ
– লোহার জিনিসের উপরে এনামেলের প্রলেপ লাগানো থাকে যার ওপর খুব সহজেই দাগ পড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে রাতে অর্ধেকটা পাত্র পানি দিয়ে ভরে এতে ১/৪ কাপ লবণ দিয়ে পুরো রাত রেখে দিন। সকালে উঠে পাত্রটি চুলায় দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন এবং পানি ফেলে সাধারণ ডিশ স্ক্রাবার দিয়ে আলতো ঘষেই তুলে ফেলতে পারবেন পোড়া দাগ।

৩। চুলার ওপরের তেলকালি দূর করতেঃ
– রান্নার সময় চুলার আশেপাশে এবং চুলার উপরে তেল মশলা পড়ে তেলতেল ভাব হতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই তেল চিটচিটে ভাব সাবান পানি দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। কুসুম গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে একটি কাপড় ভিজিয়ে ভালো করে মুছে নিন। সমস্যার সমাধান।

৪। দাঁত ব্যথা ও গলা ব্যথা দূর করতেঃ
– কুসুম গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে তা দিয়ে গার্গল করে নিন। খুব দ্রুত দাঁতের ব্যথা ও ঠাণ্ডা লেগে গলার ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন খুব সহজেই।

৫। কাপড় থেকে ঘামের দাগ দূর করতেঃ
– কাপড়ে ঘামের দাগ লেগে থাকলে তা দেখতে খুবই বাজে দেখায়। এই সমস্যা সমাধানে ১/৪ লিটার গরম পানিতে ৪ টেবিল চামচ লবণ গুলিয়ে তা দাগের উপর লাগিয়ে নিন স্পঞ্জ করে। এভাবে কয়েকবার করুন এবং শুকিয়ে গেলে কাপড়ে দাগ দেখতে পাবেন না।

৬। দুধ নষ্ট হওয়া প্রতিরোধেঃ
– বেশীদিন দুধ রেখে দিলে তা পরবর্তীতে জ্বাল দেয়ার সময় ফেটে যায়। এই সমস্যা সমাধানে দুধে ১ চিমটি লবণ সামান্য পানিতে মিশিয়ে দিয়ে দিন। বেশ লম্বা সময় দুধ নষ্ট হবে না।

৭। কেটে রাখা আপেল ও আলু তাজা রাখতেঃ
– আলু ও আপেল কেটে রাখলে বাদামী হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। এক কাজ করুন, লবণ পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। দেখবেন অনেকটা সময় বাদামী দাগ পড়ছে না।

৮। সেদ্ধ ডিমের খোসা সহজে ছাড়াতেঃ
– ডিম সেদ্ধ করে খোসা ছাড়ানোর সময় সঠিকভাবে ছাড়ানো সম্ভব হয় না অনেক সময়। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে লবণ পানিতে ডিম সেদ্ধ করুন, খুব সহজেই সেদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারবেন।

৯। সাদা বেসিন বা টাইলস এর হলুদাভাব দূর করতেঃ
– প্রায়ই দেখা পুরো বেসিন পরিষ্কার হলেও কোণায় কোণায় হলুদ দাগ জমে থাকে। কিংবা সাদা টাইলসের ফাঁকে হলুদাভাবের সৃষ্টি হয়। সমপরিমান তারপিন আর লবণ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি হলুদ স্থানে ঢেলে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে নিন। চকচকে ভাব চলে আসবে। (ঘষার পুর্বে অবশ্যই হাতে হাতমোজা পরে নেবেন)

১০। মিষ্টি বাড়াতে বা কমানোঃ
– যখন কোন মিষ্টিজাতীয় খাদ্য স্বাদহীন লাগে তখন তাতে একটু লবণ দিলে তা হয়ে উঠে সুস্বাদু। সব থাই মিষ্টিজাতীয় খাবারের স্বাদ বাড়াতে হালকা লবণ ব্যবহার করা হয়। এমনকী
মিষ্টির তীব্রতা কমাতেও লবণ ব্যবহার করা হয়।

১১। আর্দ্রতা কমাতেঃ
– শাক সবজির ভেজাভেজা অবস্থা কমাতেও লবণ ব্যবহার করা যায়। বেগুন নষ্ট হওয়া রোধ করতেও লবণ ব্যবহার করা হয়। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন আলু, ভাত, পেসতা রান্না করতেও লবণ ব্যবহার করা যায়। এর ফলে এগুলোর ভেজাভেজা ভাব চলে যাবে।

১২। খাদ্য সংরক্ষণেঃ
– মাংস সংরক্ষণে লবণ অসাধারণ কাজ করে। রোস্ট করার আগে সারারাত মাংস লবণ দিয়ে রাখলে সেই রোস্ট সহজে নষ্ট হয় না। আর মাছ সংরক্ষণে লবণের ব্যবহার তো বহু প্রাচীন।

১৩। ডিম নষ্ট না ভালো তা পরীক্ষা করতেঃ
– ডিম নষ্ট না ভালো পরীক্ষা করতে লবণের ব্যবহার করা যায়। এজন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানির মধ্যে দুই চামচ লবণ ঢালুন। এরপর খুব আস্তে করে ওই গ্লাসের মধ্যে ডিমটি ছাড়ুন। ডিম যদি সতেজ হয় তাহলে সেটি ডুবে যাবে আর যদি নষ্ট হয় তাহলে ভেসে থাকবে।

১৪। রান্নার সময় বাঁচাতেঃ
– হাতে সময় কম। এদিকে রান্না করতে হবে। এমন অবস্থা যে পানি দিয়ে রান্না হচ্ছে সেই পানিতে এক চিমটি লবণ দিলে পানি দ্রুত গরম হবে। এর ফলে রান্নার সময় বেঁচে যাবে।

১৫। থালাবাসন পরিষ্কার করতেঃ
– থালাবাসনে অত্যন্ত ময়লা জমে গেছে। খুব সহজে পরিষ্কার হচ্ছে না। এ থেকে মুক্তি পেতেও লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য ময়লা থালাবাসন লবণ মিশানো পানিতে আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেগুলো ধুয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে দেখা যাবে ঝকঝকে।

১৬। কঠিন ময়লা দূর করতেঃ
– পোশাকে অনেকসময় মনের অজান্তে পোশাকে দাগ লেগে যায়। এতেও ভয়ের কিছু নেই। এ থেকে মুক্তি পেতে পোশাকটি লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজেই সে দাগ উঠে যেতে পারে। এতে পোশাকে লাগা চা বা কফির দাগও উঠে যাবে।

১৭। পোকামাকড়ের কামড়ঃ
– বোলতা বা মৌমাছির কামড়ে আক্রান্ত হলে সে স্থানে লবণ ঘষে দিন। ব্যথা দ্রুত কমে যাবে। এছাড়া হাতে মাছের কাঁটা বিঁধলেও একই কাজ করতে পারেন।

(Visited 204 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar