চুলের শুষ্ক ও রুক্ষতা দূর করার কার্যকরী উপায় জেনে নিন

চুলের শুষ্ক ও রুক্ষতা দূর করার কার্যকরী উপায়
চুলের শুষ্ক ও রুক্ষতা দূর করার কার্যকরী উপায়

রুক্ষ চুল কারোই কাম্য নয়। নানা কারণেই হারাতে পারে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলতা। রুক্ষ চুল নষ্ট করে আমাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তাই নজর রাখতে হবে আপনারই অযত্নের কারণে চুল যেন রুক্ষ না হয়ে যায়।

আপনি কি সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন? চুলের ধরন জেনে তবেই শ্যাম্পু করা দরকার। ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনার চুল আরও বেশি রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

চুল নরম রাখার জন্য শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা খুব জরুরি। যদি আপনার মনে হয়, কন্ডিশনার আপনার চুলকে প্রচণ্ড তেলতেলে করে দিচ্ছে, তাহলে শ্যাম্পু করার আগে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

চুল ধোয়ার সময়ে কখনোই গরম পানি ব্যবহার করবেন না। শ্যাম্পু ব্যবহার করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। ঠান্ডা পানি যে শুধুমাত্র ত্বকের জন্যই উপকারী তাই নয়, চুলের জন্যও একইরকম উপকারী।

গোসল করে ভেজা চুল কখনো চিরুনি দিয়ে আঁচড়াবেন না। কারণ গোসল করার পর চুলের গোড়া নরম হয়ে থাকে। তাই তখন একটু টানেই চুল ছিঁড়ে যেতে পারে।

ঘরোয়া ৩টি হেয়ার প্যাক দেখে নেব যা আমাদের চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা কমায় ।

১। কলার হেয়ারপ্যাক
কলার হেয়ারপ্যাক চুলের রুক্ষ ভাব এবং শুষ্কতা দূর করার জন্য আদর্শ। কলাতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, লোহা ইত্যাদি থাকে যা আমাদের চুলের গোড়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং চুলের উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।
কলার হেয়ারপ্যাকটি বানানোর জন্য একটি পাকা কলার সাথে ২ চামচ মধু এবং হাফ কাপ নারকেলের তেল মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই হেয়ারপ্যাকটি সপ্তাহে একদিন চুলে লাগালেই আমরা আমাদের রুক্ষ চুলকে মসৃণ করে তুলতে পারি।

২। ঘৃতকুমারীর হেয়ারপ্যাক
ঘৃতকুমারী আমাদের চুলকে ময়শ্চারাইজ করে তোলে এবং তার ফলে আমাদের চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতাও দূর হয়। আমাদের মাথার তালুতে ভালো করে ঘৃতকুমারী মালিশ করলে আমাদের চুলের ড্যানড্রাফ দূর হয়। একটা সুরক্ষার প্রলেপ তৈরি করে যা আমাদের চুলের ময়েশ্চার আটকে রাখে । ঘৃতকুমারীর হেয়ারপ্যাক বানানো খুবই সহজ শুধু ঘৃতকুমারীর থেকে জেলটা বার করে নিতে হবে। ঘৃতকুমারীর জেলটি ভালো করে মাথায় মালিশ করে হেয়ারপ্যাকটি চুলে আধ ঘন্টার মতো সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। তারপর চুলে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে ২ বার পালন করলেই আমরা পেতে পারি সুন্দর,মসৃণ, ময়শ্চারাইজ করা চুল।

৩। বাদাম তেল এবং ডিমের হেয়ারপ্যাক
বাদাম তেল একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার যা আমাদের চুলকে নরম, মসৃণ এবং ময়শ্চারাইজ করে তোলে। আবার ডিমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন থাকে যা আমাদের চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে গোড়া থেকে। আমাদের চুলের শুষ্কতা কাটানোর জন্য সপ্তাহে একবার এই বাদাম তেল এবং ডিমের হেয়ারপ্যাকটি লাগাতে হবে। কাঁচা ডিমের মধ্যে বাদাম তেল মিশিয়ে ভালো করে ফেটাতে হবে। তারপর এই মিশ্রণটি মাথার তালুতে এবং সম্পূর্ন চুলে লাগানোর পর ৪০ মিনিট রেখে দিতে হবে। ব্যাস আর কি! শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলেই আমরা পেয়ে যাবো সুন্দর,উজ্জ্বল এবং মসৃণ চুল।

তাহলে আমরা কয়েকটি উপকারী এবং কার্যকারী ঘরোয়া হেয়ারপ্যাক জেনে নিলাম। কিন্তু আমাদের চুলকে মসৃণ এবং নরম করে তুলতে শুধু হেয়ারপ্যাক লাগালেই চলবে না। তার জন্য খেতে লাগবে প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন মাছ, গাজর ইত্যাদি। তার সাথে খাওয়া দরকার বিভিন্ন রকমের ফল, সবুজ সবজি ইত্যাদি। হেয়ারপ্যাকের সাথে এই সব খাবার খেলে আমাদের চুলের গোড়ার থেকে চুলের উন্নতি হবে।

(Visited 253 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar