মজাদার ২টি রেসিপি চাপাতি রুটি ও কালো ভুনা

মজাদার ২টি রেসিপি চাপাতি রুটি ও কালো ভুনা
মজাদার ২টি রেসিপি চাপাতি রুটি ও কালো ভুনা

মজাদার ২টি রেসিপি চাপাতি রুটি ও কালো ভুনা এখনি জেনে নিন –

১। গরুর মাংসের কালো ভুনা

উপকরণঃ
* গরুর মাংস ১ কেজি
* পেঁয়াজ ফালি ১ কাপ
* কালো গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
* আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ
* দারুচিনি
* লবঙ্গ
* মরিচ গুঁড়া
* জয়ফল জয়ত্রি গুঁড়া
* এলাচ গুঁড়া
* ভাজা জিরা গুঁড়া সবই ১ টেবিল চামচ
* সরিষার তেল পরিমাণ মত
* কাচামরিচ ইচ্ছামত
* লবণ স্বাদমত

প্রণালিঃ
১. তেল এবং পেঁয়াজ ছাড়া আর বাদ বাকি সব উপকরণ মাংসে মাখিয়ে কিছুক্ষণ (১ ঘন্টা) রাখুন।
২. এবার মাংস চুলায় কিংবা প্রেশার কুকারে বসান। কিছুক্ষণের মাঝে মাংস থেকে পানি বের হয়ে এলে দেখবেন পানি টানতে শুরু করবে এবং আপনি বুঝবেন মাংস সেদ্ধ হয়ে এসেছে।
৩. মাংস মোটামুটি শুকিয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন এবং একটা কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ কাঁচামরিচ দিয়ে দিন।
৪. পেঁয়াজ হালকা ভেজেই মাংস দিয়ে দিন এবং অল্প আঁচে ভাজতে থাকুন।
৫. এমনভাবে ভাজবেন যেন মাংসের মশলা শুকিয়ে তেল উপড়ে উঠে আসবে কিন্তু খেয়াল রাখবেন মাংস যেন শক্ত না হয়ে যায়।
৬. ব্যস, তৈরি হয়ে গেল মজাদার গরুর কালো ভুনা। গরম গরম পরোটা দিয়ে পরিবেশন করুন।

২। চাপাতি রুটি

উপকরণঃ
– ময়দা ২ কাপ,
– লবণ আধা চা চামচ,
– চিনি ১ টেবিল চামচ,
– ঘি ব্রাশের জন্য,
– পানি প্রয়োজনমতো।

প্রস্তুত প্রণালিঃ
* সব উপকরণ দিয়ে মোটামুটি শক্ত খামির করে ২ ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিতে হবে। এবার ছোট গোল করে বেলে প্রথমটির ওপর ঘি ব্রাশ করে একটু ময়দা ছিটিয়ে দ্বিতীয়টি বসাবেন। এভাবে ১০ মিনিট আবার রেখে দেবেন। তারপর ময়দা ছিটিয়ে বেলতে হবে। পাতলা করে রুটি ছেঁকে এবার ঘি ব্রাশ করবেন। তারপর ভাঁজ খুলে ফেলে তিন কোনা করে ভাঁজ দেবেন। হটপটে ভরে গরম গরম কাবাব বা মাংস কারি দিয়ে পরিবেশন করুন।

কিছু টিপসঃ
১। আটা সিদ্ধ করার আগে একটু চেলে নেয়া ভাল, এতে পুরোনো আটা হলে লাম্পি হয়ে থাকে না, পানিতে সহজে মিশে যায় ।
২। আটা সিদ্ধ হবার সময় লবন দিয়ে সিদ্ধ করতে দিন, আটা সিদ্ধ হভার পানি অবশ্যই ফুটন্ত হতে হবে এবং কোন ক্রমেই ঠান্ডা বা রুম টেম্পেরেচারের কাচা পানি ব্যাবহার করা যাবে না, কখনো পানি তে আটা বেশি হয়ে গেলে ফুটন্ত পানি যোগ করা যায়, কাচা পানি না, তাই আটা বুঝে শুনে পরিমানমত বা অল্প করে পানিতে যোগ করবেন আর না হলে অন্য আরেকটা পাত্রে পানি ফুটিয়ে রাখুন ।
৩। আটা সিদ্ধ করে একটা ঢাকনা দিয়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন, এতে ভিতরে ময়েশ্চার লক হয়ে যাবে এবং রুটি নরম হবে ।
৪। আটা ভাল করে মথে নেয়ার মধ্যে রুটি নরম হওয়ার আসল ট্রিক, এখানে একটা ট্রিক আছে, হাত একটু পর পর হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে ডো টা মথতে থাকুন, এই একটু পর পর পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে মাখার ফলে আটা পানি শুষে নিবেন আর এই ময়েশ্চার এর জন্য রুটি হয় নরম, এই পার্টটাই আসল, স্কিপ করবেন না, কমপক্ষে ১০ মিনিট মথুন, মথার সময় এক্সট্রা আটা নিবেন না, হাত ভিজিয়ে ভিজিয়ে মথবেন, সুন্দর চকচকে হয়ে গেলেই ডো রেডি ।
৫। গোল গোল বল করে রুটি বেলার সময় ভিজা কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে বাকি বলগুলো ঢেকে রাখুন, এতে ড্রাই হয়ে যাবে না ।
৬। রুটি বেলার সময় এক গাদা আটা ছিটিয়ে রুটি বেলবেন না, এতে রুটি শক্ত হয়ে যায়, অল্প আটা ছিটিয়ে বেলার চেষ্টা করুন, অনেকে বলগুলকে আটাতে চুবিয়ে আবার এক গাদা আটা দিয়ে বেলে, এতে রুটি নরম ত হবে না আরো শক্ত হবে, হালকা হালকা আটা ছিটিয়ে বেলুন, চারিদিকে সমানভাবে বেলুন, নয়তো রুটি সমানভাবে ফুলবে না ।
৭। বেলে সাথে সাথে ভেজে ফেলুন, বাতাসে মেলে রাখবেন না, ড্রাই হয়ে যায়, আগের দিনে একান্নবর্তি পরিবারে দেখা যেতো, একজন বেলতো, একজন ভাজতো. অনেকেই বলে আগের মত খাবারে স্বাদ নেই. এরকম অনেক ছোট খাটো ব্যাপারও যে কতটা ম্যাটার করে তা এখন বুঝি ।
৮। ভাজার সময় তাওয়া গরম রাখুন এবং হাই হিটে অল্প সময় ভাজুন, রুটি ঠান্ডা তাওয়াতে ভাজলে ফুলে উঠতে দেরি হয়, রুটি সব সময় বেশি তাপে অল্প সময় ভাজতে হয়, বেশি সময় ভাজলেই কিন্তু রুটি শক্ত হয়ে যায় ।
৯। ভেজে ফেলার সাথে সাথে গরম রুটি একটা কিচেন টাওয়েল বা সুতির কাপড় দিয়ে মুড়ে নিন, প্রতিবার ভেজেই কাপড় দিয়ে মুড়ে দিন, এতে রুটির ভিতরের ময়েশ্চার লক হয়ে রুটি নরম থাকবে ।
১০। রুটি তে আটা আর পানির পরিমান কেমন হবে, এটা আসলে পরিমান বলে করা সম্ভব নয়, একেক ব্র‍্যান্ড এর আটা একেক রকম পানি শোষন করে, তাই এটা নিজের জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হয়, সাধারনত বলা হয় ১ কাপ পানির জন্য ৩/৪ ভাগ কাপ ময়দা ।

তথ্য এবং ছবি : গুগল

(Visited 126 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar