ফল ও সবজি কেমিক্যাল মুক্ত করবেন কিভাবে?

ফল ও সবজি কেমিক্যাল মুক্ত করবেন কিভাবে?
ফল ও সবজি কেমিক্যাল মুক্ত করবেন কিভাবে?

বর্তমানে আমাদের দেশে এক আতঙ্কের নাম ফরমালিন এবং আমাদের অতি পরিচিত একটি শব্দ। আমাদের দেশে মনে হয় এমন লোক কমই পাওয়া যাবে যে এই শব্দটার সাথে পরিচিত না। মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করার কাজে যে কেমিক্যাল ব্যবহার হত আজ সেটা ব্যাবহার হচ্ছে ফল, সবজি, মাছ-মাংসে। সরকার এবং আইন রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শত চেষ্টা করেও অত্যন্ত ক্ষতিকর এই কেমিক্যালের ব্যাবহার বন্ধ করতে পারছেন না।

ফরমালিন শরীরের কোন কোন অংশের ক্ষতি করে না এটি বলাই হয়ত সবচেয়ে সহজ। মানব শরীরের এমন কোন অংশ নেই যার ওপর এই কেমিক্যালের প্রভাব পরে না। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই কেমিক্যাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফরমালিন আপনার চোখের রেটিনাকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাৎক্ষনিকভাবে শ্বাসকষ্ট, পেটের পিড়া, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগ ধীরে ধীরে লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সবকিছুকেই ধ্বংস করে দিতে পারে। হতে পারে পাকস্থলি, ফুসফুস, শ্বাসনালীর ক্যান্সার এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও। সন্তান প্রসবের সময়ের জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি, প্রতিবন্ধি শিশুরও জন্ম হতে পারে। তাছারাও ফরমালিনযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

কিভাবে বুঝবেন কেমিক্যাল দেওয়াঃ সাধারানত ল্যাবে টেস্ট না করে সরাসরি ধরা খুব কঠিন, তবুও কিছু কিছু জিনিস দেখে কিনবেন যেমনঃ

*** সিজনের আগেই যখন বাজারে কোন ফল পাকা অবস্থায় চলে আসলে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারেন যে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো
*** অনেক সময় ফল কিনে দুই একদিন রেখে দিলে যদি কালো ফোটা ফোটা দাগ পড়ে তাহলে বুঝবেন কেমিক্যাল দেওয়া।
*** যদি ফল দেখতে অনেক বেশী আকর্ষণীয় হয়। যেমন ধরুন সম্পূর্ণ কলার ছড়ি ধরে একই রকম পাকা বা সম্পূর্ণ আমের রঙ একই রকম। তাহলে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো, কারণ প্রাকৃতিক ভাবে হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনও সমান হতে পারে না।
*** ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বর্ণের হয়, চোখ ও আঁইশ উজ্জ্বল হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়, মাছের দেহ নরম হয়, ত্বকের আঁশ পিচ্ছিল থাকে।

কিভাবে কেমিক্যাল দূর করবেনঃ যদি আপনি নিশ্চিত হতে না পারেন যে ফল, সবজি বা মাছ-মাংস কেমিক্যাল মুক্ত নাকি মুক্ত না, তবে নিচের পদ্ধতিগুলো ফল, সবজি বা মাছ-মাংসের কেমিক্যাল দূর করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

১. গরম পানিঃ রান্না করার আগে হালকা গরম পানিতে সবজি ভাল করে ধুয়ে নিন, এতে টক্সিন দূর হবে। খুব গরম বা খুব ঠান্ডা পানিতে ধুলে ভাল করে পেস্টিসাইড বা কেমিক্যাল পরিষ্কার হবে না। হালকা গরম পানি ওয়াক্স, পালিশ বা অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক দূর করতে সাহায্য করবে।

২. লবন পানিঃ বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে আধ চামচ লবন দিন। এই পানিতে ফল-সবজি ধুয়ে নিয়ে তারপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। কেমিক্যালের মাত্রা কমে যাবে। লবন পানিতে ফরমালিন দেওয়া মাছ ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ৯০% ফরমালিনের মাত্রা কমে যায়।

৩. সাধারন পানিঃ ফল, সবজি বা মাছ-মাংস সাধারন পানিতে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। কেমিক্যালের মাত্রা ৬০ ভাগেরও বেশি কমে যাবে।

৪. চাল ধোয়া পানিঃ প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে পরে সাধারন পানিতে মাছ ধুলে ৭০% ফরমালিন কমে যায়।

৫. ভিনেগার ও পানির মিস্রনঃ পানিতে ১০% আয়তন অনুযায়ী ভিনেগার মেশান তারপর ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখুন। এতে ১০০% ফরমালিনই দূর হবে।

৬. খোসাঃ ফল বা সবজি পানিতে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে আবার পানিতে ধুয়ে নিন। এতে কেমিক্যালের মাত্রা অনেকটা কমে যাবে।

কেমিক্যাল মুক্ত ফল বা সবজির জন্য আপনার বাড়ির ছাদ বা বারান্দাই ফল ও সবজির গাছ লাগান। এতে যেমন কেমিক্যাল মুক্ত ফল ও সবজি পাবেন, তেমনি আপনার বাজার খরচও অনেকটা কমে যাবে।

(Visited 167 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar