জেনে নিন কলার খোসার ১৫টি উপকারিতা

কলার-খোসার-উপকারিতা

কলা খেতে অনেকেরই ভালো লাগে। চমৎকার পুষ্টিগুণসম্পন্ন এই ফলটিতে রয়েছে প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। তবে কলা খেলেও খোসা সব সময়ই ফেলে দিই আমরা। শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এর মধ্যে রয়েছে ওষুধি অনেক গুণ। গুণগুলো জানলে হয়তো কলার খোসা ফেলে দেওয়ার আগে আরেকবার ভাববেন আপনি।আসুন তা হলে জেনে নিয়া যাক –

১। জুতা চকচকে করে তুলতেঃ

হাতের কাছে শু পলিশ নেই অথচ চকচকে করে তুলতে হবে জুতা? শু পলিশের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন কলার খোসা। প্রথমে জুতায় ময়লা লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে নিন। এবার পাকা কলার খোসার ভেতরের অংশটা দিয়ে জুতা ওপরে ঘষুন অন্তত ৫ মিনিট। নিজেই দেখবেন যে চকচকে হয়ে উঠতে শুরু করেছে জুতা। এবার একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জুতা জোড়া ভালো করে মুছে নিন।

২। খাবার হিসেবেঃ

কাঁচা কলা খাওয়া হয় সবজি হিসেবে। এর ফেলা দেয়া খোসাও খাওয়া যায় খাবার হিসেবে। কাঁচা কলার খোসার ওপরের আঁশ ফেলে দিয়ে কুচি করে নিন। এরপর এটা ভাঁপিয়ে নিন। এর সাথে শুকনো মরিচ ভাজা, পেঁয়াজ, রসুন ও সরিষার তেল দিয়ে বেটে নিন। হয়ে গেল চমত্‍কার ভর্তা। চাইলে এর সাথে ছোট চিংড়ি মাছও যোগ করতে পারেন।

৩। মসৃণ ত্বকের জন্যঃ

মুখমণ্ডল যদি শুষ্ক আর খসখসে হয়, কলার খোসার ভেতরের অংশ মুখে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বক মসৃণ ও মোলায়েম হয়ে গেছে।

৪। ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্যঃ

প্রাকৃতিক উপায়ে সাদা ঝকঝকে দাঁতের জন্য কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই দাঁত থেকে হলদে ভাবটা কিছুতেই ওঠাতে পারেন না। কলার খোসার ভেতরের দিকটা দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁত মাজুন। দাঁতে ব্যথা কমাতেও কলার খোসা ভালো কাজ করে । দাঁতে পাকা কলার খোসা প্রতিদিন ঘষে টানা এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে তা ভালো কাজে দেবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারে আপনি এর ফলাফল পাবেন।

৫। ব্রণ দূর করতেঃ

মুখের ব্রণ দূর করতে কলার খোসা উপকারী। এর মাধ্যমে একবার সেরে গেলে ব্রণ আর ফিরে আসে না। মুখে ভালো করে ঘষে সারারাত রেখে দিলে ব্রণের সমস্যা কাটবে।

৬। মুখের দাগ দূর করতেঃ

কলার খোসা ব্যবহার করে সহজেই মুখের দাগ দূর করা যায়। মধুর সঙ্গে কলার খোসা মিশিয়ে মুখে ভালো করে ঘষলে এই দাগ দূর হয়।

৭। বলিরেখা দূর হয়ঃ

ত্বকের জন্যও কলার খোসা অনেক উপকারী। কলার খোসায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা বলিরেখা ঢাকতে পারে। এটি সজীব ত্বকে সাহায্য করতে পারে।

৮। দাদের ওষুধঃ

কলার খোসা দাদের ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। চুলকালে সেই অংশে কলার খোসা ঘষে দিলে চুলকানি বন্ধ হবে এবং দ্রুত দাদ সেরে যাবে।

৯। খোসপাঁচড়া দূর করেঃ

ত্বকে কোথাও পাঁচড়া-জাতীয় কিছু হলে সেই জায়গায় কলার খোসা মেখে রাখুন, অথবা কলার খোসা পানির মধ্যে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে সংক্রমিত জায়গা কয়েক দিন ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

১০। মশা বা পোকা-মাকড় কামড়ালেঃ

মশা বা পোকামাকড়ের কামড়ে ত্বক ফুলে গেলে বা ত্বকের জ্বালাপোড়া হলে এটি কমাতে কলার খোসা ঘষলে উপকার পাবেন। যদি কোনো পোকা-মাকড় হঠাত্ কামড় দিয়ে বসে এবং চুলকাতে থাকে এর জন্য কলার খোসা কাজে লাগাতে পারেন। দ্রুত ব্যথা ও চুলকানি সেরে যাবে।

১১। গহনা পরিষ্কারে কলার খোসাঃ

কলার খোসা দিয়ে চামড়ার জুতা, কাপড়, রুপার গয়না পরিষ্কার করতে পারেন। তাতে অলংকার টেকসই হয় ও মসৃণতা বাড়ে।

১২। সিডি বা ডিভিডির স্ক্র্যাচ দূর করতেঃ

সিডি বা ডিভিডিতে কিছুদিনের মধ্যেই স্ক্র্যাচ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে সিডি চলতে চায় না, ডিভিডির ভিডিও আটকে আটকে যায়। এ সমস্যা সমাধান করতে পারে কলার খোসা। কলার খোসার ভেতরের অংশটি দিয়ে সিডি বা ডিভিডিটি ভালো করে ঘষে নিন। দেখবেন স্ক্র্যাচ একেবারেই চলে গিয়েছে। এবং সিডি বা ডিভিডিও চলবে আগের মতোই।

১৩। আঁচিল দূর করতেঃ

আঁচিল বা জড়ুল থেকে মুক্তি পেতে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। এক পিস কলার খোসা আঁচিলের ওপর ব্যান্ডেজের মতো করে বাঁধুন। সারা রাত রেখে দিন। এভাবে কয়েক দিন করলে আঁচিল দূর হয়ে যাবে। তবে ৭ দিনের মধ্যে এ পদ্ধতিতে আঁচিল পড়ে না গেলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

১৪। সোরিয়াসিস রোগেঃ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোরিয়াসিসের মতো কঠিন ত্বকের রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কলার খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকে এটি ব্যবহার করার ১০ মিনিটের মধ্যে সোরিয়াসিসের লক্ষণগুলো চলে যাবে।
আরও পড়ুনঃ পেট কমাবেন কীভাবে?

১৫। ব্যথানাশক হিসেবেঃ

ত্বকে কি কোনো বিরক্তি বোধ বা ব্যথা বোধ করছেন? তাহলে কলার খোসা ঘষতে পারেন। এর ব্যবহারে ১০ মিনিটের মধ্যে আপনি ত্বকে ভালো পরিবর্তন দেখতে পাবেন। ব্যথা কমে যাবে।

(Visited 61 times, 1 visits today)
Share :
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar